বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন
সাহিত্য আর সংস্কৃতির বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস নিউইয়র্কে!
অনলাইন ডেস্ক
নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার পর্দা নামল সাড়ম্বরে ও সাহিত্যের দীপ্তিময় আলোয়। সোমবার (২৬ মে) নিউইয়র্কের জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে (১৫৩-১০ জ্যামাইকা অ্যাভিনিউ) অনুষ্ঠিত ৩৪তম আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা রূপ নেয় এক অসাধারণ সাহিত্য উৎসবে, যেখানে লেখক, পাঠক, প্রকাশক আর শিল্পমনাদের মিলনমেলা যেন বাঙালির মনের উঠোনে সাহিত্যের শেকড় মেলেছিল।
এবারও বইমেলার দায়িত্বে ছিল নিউইয়র্কের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ‘মুক্তধারা ফাউন্ডেশন’। শুক্রবার (২৩ মে) শুরু হওয়া এই চারদিনের উৎসবে যুক্ত হয় ২৫টিরও বেশি প্রকাশনী সংস্থা, যেখানে প্রদর্শিত হয় তিন সহস্রাধিক নতুন ও পুরাতন গ্রন্থ। বইমেলার আয়োজন ছিল বহুমাত্রিক—লেখক-পাঠক আড্ডা, কবিতা পাঠ, সাহিত্যালাপ, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং রাতভর মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা পাঠকদের মুগ্ধ করে। বিশিষ্ট লেখকদের উপস্থিতি এবং তাদের সরাসরি মতবিনিময় মেলায় যোগ করে ভিন্নমাত্রা।
বইমেলার শুভ উদ্বোধন করেন পাঠকপ্রিয় কথাসাহিত্যিক সাদাত হোসাইন। প্রথম দিন প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান রাখা ফিলিস টেইলর। মঞ্চে আরও ছিলেন বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন (অব.) ডা. সিতারা বেগম। আলো ছড়ান অর্থনীতিবিদ ড. রেহমান সোবহান, ভাষাবিজ্ঞানী গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক, আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক রওনক জাহান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামীম রেজা, লেখক-বিতার্কিক বিরূপাক্ষ পাল, সাংবাদিক-গবেষক আবু সাঈদ খান, মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাসবিদ মুস্তাফিজ শফি এবং আরও অনেকে।
বইপ্রেমীদের ঢল নামে নিউইয়র্ক ও আশপাশের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আগত দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণে। মেলার শেষ দিন এক অসাধারণ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। আয়োজকরা জানান, আগামী বছর বইমেলাকে আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
তৃতীয় দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা তিনটি মর্যাদাসম্পন্ন পুরস্কার: মুক্তধারা-জিএফবি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫, মুক্তধারা আজীবন সম্মাননা ২০২৫ এবং চিত্তরঞ্জন সাহা প্রকাশনা পুরস্কার ২০২৫। এই ঘোষণায় বইমেলায় আগত বাঙালি দর্শনার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে উচ্ছ্বাস। এ বছর (২০২৫) মুক্তধারা-জিএফবি সাহিত্য পুরস্কার পান ভারতীয় বাঙালি ভাষাতাত্ত্বিক ও সাহিত্যিক অধ্যাপক ড. পবিত্র সরকার। ভাষা ও সাহিত্যের এই নিঃসঙ্গ সাধকের হাতে তুলে দেওয়া হয় তিন হাজার ডলারের সম্মাননা। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে এই পুরস্কার পান কথাসাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। পুরস্কারের পৃষ্ঠপোষক নিউজার্সিভিত্তিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান জিএফবি, যার প্রেসিডেন্ট গোলাম ফারুক ভূইয়া মুক্তধারার উপদেষ্টা হিসেবেও যুক্ত।
আজীবন সাহিত্য সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘নিউইয়র্ক মুক্তধারা আজীবন সম্মাননা ২০২৫’ পেলেন ষাটের দশকের শক্তিশালী কথাসাহিত্যিক ড. আবদুন নূর। বিশ্লেষণধর্মী গদ্য ও বহুসংখ্যক উপন্যাসের এই স্রষ্টা দীর্ঘ সাহিত্যচর্চায় রেখেছেন অমলিন ছাপ। অন্যদিকে, তরুণ লেখকদের গ্রন্থ প্রকাশে উৎসাহ প্রদানকারী ‘চিত্তরঞ্জন সাহা প্রকাশনা পুরস্কার’ অর্জন করেছে কবি প্রকাশনী, যার সম্মাননা মূল্য এক হাজার ডলার।
পুরস্কার বিতরণ করেন বইমেলার আহ্বায়ক ও ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রাক্তন প্রধান রোকেয়া হায়দার, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের সিইও বিশ্বজিত সাহা এবং চেয়ারপারসন ডা. জিয়াউদ্দীন আহমেদ। তারা তৃতীয় দিনে পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন এবং অনুষ্ঠানের গৌরব বাড়ান। সপ্তাহান্তের দুই দিন—রবিবার এবং সোমবার—বইমেলায় উপচে পড়া ভিড়ে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন থেকে শুরু করে সন্ধ্যার তারকাবহুল সঙ্গীতানুষ্ঠান—সবকিছুই দর্শকদের ধরে রাখে রাত অবধি।
উল্লেখযোগ্য যে, ২৫ মে রবিবার (২০২৫) নিউইয়র্ক টাইমস-এ বইমেলা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে ‘A Festival of Words’ শিরোনামের এক সংবাদ। ‘গণমাধ্যম’ হিসেবে টাইমস বইমেলাকে বর্ণনা করেছে এক আনন্দঘন সাহিত্যোৎসব হিসেবে এবং সাহিত্যের প্রতি মানুষের এই আগ্রহকে জানিয়েছে আন্তরিক অভিনন্দন।নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার পর্দা নামল সাড়ম্বরে ও সাহিত্যের দীপ্তিময় আলোয়। সোমবার (২৬ মে) নিউইয়র্কের জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে (১৫৩-১০ জ্যামাইকা অ্যাভিনিউ) অনুষ্ঠিত ৩৪তম আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা রূপ নেয় এক অসাধারণ সাহিত্য উৎসবে, যেখানে লেখক, পাঠক, প্রকাশক আর শিল্পমনাদের মিলনমেলা যেন বাঙালির মনের উঠোনে সাহিত্যের শেকড় মেলেছিল।
এবারও বইমেলার দায়িত্বে ছিল নিউইয়র্কের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ‘মুক্তধারা ফাউন্ডেশন’। শুক্রবার (২৩ মে) শুরু হওয়া এই চারদিনের উৎসবে যুক্ত হয় ২৫টিরও বেশি প্রকাশনী সংস্থা, যেখানে প্রদর্শিত হয় তিন সহস্রাধিক নতুন ও পুরাতন গ্রন্থ। বইমেলার আয়োজন ছিল বহুমাত্রিক—লেখক-পাঠক আড্ডা, কবিতা পাঠ, সাহিত্যালাপ, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং রাতভর মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা পাঠকদের মুগ্ধ করে। বিশিষ্ট লেখকদের উপস্থিতি এবং তাদের সরাসরি মতবিনিময় মেলায় যোগ করে ভিন্নমাত্রা।
বইমেলার শুভ উদ্বোধন করেন পাঠকপ্রিয় কথাসাহিত্যিক সাদাত হোসাইন। প্রথম দিন প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান রাখা ফিলিস টেইলর। মঞ্চে আরও ছিলেন বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন (অব.) ডা. সিতারা বেগম। আলো ছড়ান অর্থনীতিবিদ ড. রেহমান সোবহান, ভাষাবিজ্ঞানী গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক, আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক রওনক জাহান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামীম রেজা, লেখক-বিতার্কিক বিরূপাক্ষ পাল, সাংবাদিক-গবেষক আবু সাঈদ খান, মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাসবিদ মুস্তাফিজ শফি এবং আরও অনেকে।
বইপ্রেমীদের ঢল নামে নিউইয়র্ক ও আশপাশের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আগত দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণে। মেলার শেষ দিন এক অসাধারণ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। আয়োজকরা জানান, আগামী বছর বইমেলাকে আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
তৃতীয় দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা তিনটি মর্যাদাসম্পন্ন পুরস্কার: মুক্তধারা-জিএফবি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫, মুক্তধারা আজীবন সম্মাননা ২০২৫ এবং চিত্তরঞ্জন সাহা প্রকাশনা পুরস্কার ২০২৫। এই ঘোষণায় বইমেলায় আগত বাঙালি দর্শনার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে উচ্ছ্বাস। এ বছর (২০২৫) মুক্তধারা-জিএফবি সাহিত্য পুরস্কার পান ভারতীয় বাঙালি ভাষাতাত্ত্বিক ও সাহিত্যিক অধ্যাপক ড. পবিত্র সরকার। ভাষা ও সাহিত্যের এই নিঃসঙ্গ সাধকের হাতে তুলে দেওয়া হয় তিন হাজার ডলারের সম্মাননা। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে এই পুরস্কার পান কথাসাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। পুরস্কারের পৃষ্ঠপোষক নিউজার্সিভিত্তিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান জিএফবি, যার প্রেসিডেন্ট গোলাম ফারুক ভূইয়া মুক্তধারার উপদেষ্টা হিসেবেও যুক্ত।
আজীবন সাহিত্য সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘নিউইয়র্ক মুক্তধারা আজীবন সম্মাননা ২০২৫’ পেলেন ষাটের দশকের শক্তিশালী কথাসাহিত্যিক ড. আবদুন নূর। বিশ্লেষণধর্মী গদ্য ও বহুসংখ্যক উপন্যাসের এই স্রষ্টা দীর্ঘ সাহিত্যচর্চায় রেখেছেন অমলিন ছাপ। অন্যদিকে, তরুণ লেখকদের গ্রন্থ প্রকাশে উৎসাহ প্রদানকারী ‘চিত্তরঞ্জন সাহা প্রকাশনা পুরস্কার’ অর্জন করেছে কবি প্রকাশনী, যার সম্মাননা মূল্য এক হাজার ডলার।
পুরস্কার বিতরণ করেন বইমেলার আহ্বায়ক ও ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রাক্তন প্রধান রোকেয়া হায়দার, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের সিইও বিশ্বজিত সাহা এবং চেয়ারপারসন ডা. জিয়াউদ্দীন আহমেদ। তারা তৃতীয় দিনে পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন এবং অনুষ্ঠানের গৌরব বাড়ান। সপ্তাহান্তের দুই দিন—রবিবার এবং সোমবার—বইমেলায় উপচে পড়া ভিড়ে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন থেকে শুরু করে সন্ধ্যার তারকাবহুল সঙ্গীতানুষ্ঠান—সবকিছুই দর্শকদের ধরে রাখে রাত অবধি।
উল্লেখযোগ্য যে, ২৫ মে রবিবার (২০২৫) নিউইয়র্ক টাইমস-এ বইমেলা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে ‘A Festival of Words’ শিরোনামের এক সংবাদ। ‘গণমাধ্যম’ হিসেবে টাইমস বইমেলাকে বর্ণনা করেছে এক আনন্দঘন সাহিত্যোৎসব হিসেবে এবং সাহিত্যের প্রতি মানুষের এই আগ্রহকে জানিয়েছে আন্তরিক অভিনন্দন।নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার পর্দা নামল সাড়ম্বরে ও সাহিত্যের দীপ্তিময় আলোয়। সোমবার (২৬ মে) নিউইয়র্কের জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে (১৫৩-১০ জ্যামাইকা অ্যাভিনিউ) অনুষ্ঠিত ৩৪তম আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা রূপ নেয় এক অসাধারণ সাহিত্য উৎসবে, যেখানে লেখক, পাঠক, প্রকাশক আর শিল্পমনাদের মিলনমেলা যেন বাঙালির মনের উঠোনে সাহিত্যের শেকড় মেলেছিল।
এবারও বইমেলার দায়িত্বে ছিল নিউইয়র্কের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ‘মুক্তধারা ফাউন্ডেশন’। শুক্রবার (২৩ মে) শুরু হওয়া এই চারদিনের উৎসবে যুক্ত হয় ২৫টিরও বেশি প্রকাশনী সংস্থা, যেখানে প্রদর্শিত হয় তিন সহস্রাধিক নতুন ও পুরাতন গ্রন্থ। বইমেলার আয়োজন ছিল বহুমাত্রিক—লেখক-পাঠক আড্ডা, কবিতা পাঠ, সাহিত্যালাপ, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং রাতভর মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা পাঠকদের মুগ্ধ করে। বিশিষ্ট লেখকদের উপস্থিতি এবং তাদের সরাসরি মতবিনিময় মেলায় যোগ করে ভিন্নমাত্রা।
বইমেলার শুভ উদ্বোধন করেন পাঠকপ্রিয় কথাসাহিত্যিক সাদাত হোসাইন। প্রথম দিন প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান রাখা ফিলিস টেইলর। মঞ্চে আরও ছিলেন বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন (অব.) ডা. সিতারা বেগম। আলো ছড়ান অর্থনীতিবিদ ড. রেহমান সোবহান, ভাষাবিজ্ঞানী গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক, আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক রওনক জাহান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামীম রেজা, লেখক-বিতার্কিক বিরূপাক্ষ পাল, সাংবাদিক-গবেষক আবু সাঈদ খান, মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাসবিদ মুস্তাফিজ শফি এবং আরও অনেকে।
বইপ্রেমীদের ঢল নামে নিউইয়র্ক ও আশপাশের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আগত দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণে। মেলার শেষ দিন এক অসাধারণ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। আয়োজকরা জানান, আগামী বছর বইমেলাকে আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
তৃতীয় দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা তিনটি মর্যাদাসম্পন্ন পুরস্কার: মুক্তধারা-জিএফবি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫, মুক্তধারা আজীবন সম্মাননা ২০২৫ এবং চিত্তরঞ্জন সাহা প্রকাশনা পুরস্কার ২০২৫। এই ঘোষণায় বইমেলায় আগত বাঙালি দর্শনার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে উচ্ছ্বাস। এ বছর (২০২৫) মুক্তধারা-জিএফবি সাহিত্য পুরস্কার পান ভারতীয় বাঙালি ভাষাতাত্ত্বিক ও সাহিত্যিক অধ্যাপক ড. পবিত্র সরকার। ভাষা ও সাহিত্যের এই নিঃসঙ্গ সাধকের হাতে তুলে দেওয়া হয় তিন হাজার ডলারের সম্মাননা। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে এই পুরস্কার পান কথাসাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। পুরস্কারের পৃষ্ঠপোষক নিউজার্সিভিত্তিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান জিএফবি, যার প্রেসিডেন্ট গোলাম ফারুক ভূইয়া মুক্তধারার উপদেষ্টা হিসেবেও যুক্ত।
আজীবন সাহিত্য সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘নিউইয়র্ক মুক্তধারা আজীবন সম্মাননা ২০২৫’ পেলেন ষাটের দশকের শক্তিশালী কথাসাহিত্যিক ড. আবদুন নূর। বিশ্লেষণধর্মী গদ্য ও বহুসংখ্যক উপন্যাসের এই স্রষ্টা দীর্ঘ সাহিত্যচর্চায় রেখেছেন অমলিন ছাপ। অন্যদিকে, তরুণ লেখকদের গ্রন্থ প্রকাশে উৎসাহ প্রদানকারী ‘চিত্তরঞ্জন সাহা প্রকাশনা পুরস্কার’ অর্জন করেছে কবি প্রকাশনী, যার সম্মাননা মূল্য এক হাজার ডলার।
পুরস্কার বিতরণ করেন বইমেলার আহ্বায়ক ও ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রাক্তন প্রধান রোকেয়া হায়দার, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের সিইও বিশ্বজিত সাহা এবং চেয়ারপারসন ডা. জিয়াউদ্দীন আহমেদ। তারা তৃতীয় দিনে পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন এবং অনুষ্ঠানের গৌরব বাড়ান। সপ্তাহান্তের দুই দিন—রবিবার এবং সোমবার—বইমেলায় উপচে পড়া ভিড়ে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন থেকে শুরু করে সন্ধ্যার তারকাবহুল সঙ্গীতানুষ্ঠান—সবকিছুই দর্শকদের ধরে রাখে রাত অবধি।
উল্লেখযোগ্য যে, ২৫ মে রবিবার (২০২৫) নিউইয়র্ক টাইমস-এ বইমেলা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে ‘A Festival of Words’ শিরোনামের এক সংবাদ। ‘গণমাধ্যম’ হিসেবে টাইমস বইমেলাকে বর্ণনা করেছে এক আনন্দঘন সাহিত্যোৎসব হিসেবে এবং সাহিত্যের প্রতি মানুষের এই আগ্রহকে জানিয়েছে আন্তরিক অভিনন্দন।